অসমাপ্ত ( পর্ব- ২)

Osomapto 2

Source:- Photo by Min An from Pexels

অসমাপ্ত ( পর্ব - ২)

কলমে - রনি বক্সী  ( Bong Boy Roni ) 

একদিকে প্রীতিকে হারানোর ভয় কারণ প্রীতির পরিবার আর সুমনের পরিবার তাদের এই সম্পর্কটা কোনোদিন মেনে নেবে না আর অন্যদিকে সুমন তখনও বেকার তারাতারি ভালো চাকরি না পেলে সে প্রীতিকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারবে না। এইসব চিন্তা সুমনের মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে কিন্তু সে প্রীতিকে বুঝতে দেই না । মাঝে মাঝে প্রীতির ম্যাসেজ করতে দেরি হলে বা কল না পেলে সুমন প্রীতিকে রাগ দেখাই কিন্তু সুমন এটাও জানতো যে প্রীতিকে কিছু বললে প্রীতির থেকে বেশি সে নিজে কষ্ট পাবে , তাই প্রীতি কখনও রাগ করলে সুমন আগে তার রাগ ভাঙ্গাত

তারপর অন্য কাজ । প্রীতি এই প্রথম শিবরাত্রির উপস করেছে , প্রীতির ইচ্ছা ছিল পরের বছর যখন তারা বিয়ে করবে তখন সুমন যেন প্রতির সাথে মন্দিরে যাই । প্রীতি একদিন সুমনকে জানাই প্রীতির নাকি সেই ছেলেটির সাথে বিয়ে ভেঙ্গে গেয়েছে যার সাথে ঠিক হয়েছিল । এই খবর শোনার পর সুমন খুব খুশি হয় কারণ এই বিয়ে ভাঙ্গার পর সুমন নিজের কেরিয়ার তৈরি করার জন্য ২ বছর সময় পেয়েছিল । সব কিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল ভগবান যেন তাদের এক করার জন্য নিজে হাতে সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে দিচ্ছিল ।  কিন্তু হতাৎ সব কিছু পালটে গেল।

 

 

 

একদিন সুমনের বাড়িতে প্রীতি আর সুমনের সম্পর্কের কথা জেনে গেল । সুমনের কাছে অনুরোধ করা হয় যেন সুমন এই সম্পর্কটা ভেঙ্গে দেই । কিন্তু সুমন যে প্রীতিকে কথা দিয়েছিল যে যত বড়ই বিপত্তি আসুক না কেন সুমন প্রীতির হাত কোনো দিন ছাড়বে না । সে প্রীতিকে সবটা বলে এবং সে প্রীতিকে জানাই যে সে যখন প্রীতিকে  একবার কথা দিয়েছে সে নিজের কথা রাখবে , আর যদি সে প্রীতিকে না পাই তাহলে তাকে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হবে । কারণ যেই সুমন একদিন কথা না বলে থাকতে পারে না সে সারাজীবন থাকবে কি করে । কিন্তু প্রীতি এই কথা গুলো শুনে ভয় পাই এবং সম্পর্কটা শেষ করার কথা বলে । একদিন প্রীতি সুমনকে কথা দিয়েছিল যতই বিপদ আসুক সে সুমনকে কখনও হারাতে চাইনা সেই প্রীতি পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে আবার সুমনকে একা করে দেই আর অনুরোধ করে যেন রাগের মাথাই সুমন এমন কোনও ভুল সিদ্ধান্ত না নেই যার জন্য প্রীতিকে বিপদে পরতে হয়। সুমন প্রীতির কথা ভেবে সবটা মেনে নিয়েছিল। প্রীতি ধিরে ধিরে সুমনের সাথে কথা বলা কম করে দিল যেটা সুমনের কাছে আর বেশি কষ্টের হয়ে উঠলো । সে সারাদিন প্রীতির কথা ভেবে চোখের জল ফেলত । কিছু কিছু সময় কষ্টটা এতো বেশি হয়ে যেত যেটা সে সহ্য করতে পারতো না। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সুমন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে চাই। কিন্তু মরতে চাইলেই তো হবে না , বিধাতা যে সুমনের ভাগ্যে এতো তারাতারি মৃত্যু লেখেনি । এতো তারাতারি সুমনের কষ্ট থেকে মুক্তি ছিল না । সুমন ঠিক করল সে এই কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসবে , তাই সে চাইলো প্রথমে তাকে প্রীতির মনে তার প্রতি ঘৃণা আনতে হবে । সুমন ঠিক করল সে প্রীতিকে অপমান করবে এবং সুমন সেটাই করল । সে প্রীতিকে এমন অপমান করল যেটা সে আগে কখনও কাওকে করেনি।তাই সে প্রীতিকে অপমান করার জন্য ম্যাসেজ করে কিন্তু ম্যাসেজ গুলো পাঠানোর পর সুমন বুঝতে পারল এটা সে ঠিক করেনি। কারণ প্রীতির মনে ঘৃণার সৃষ্টি করতে গিয়ে সে প্রীতিকে কতটা কষ্ট দিয়ে ফেলল। সুমন কি করবে বুঝতে না পেরে তার এক বান্ধবীকে কল করে এবং তাকে সবটা জানায় এবং তাকে এটাও বলে যে সে যেন প্রীতিকে বোঝায় যে সে অপমান করতে চাইনি বাধ্য হয়েছে করতে । কিন্তু ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল, প্রীতি ম্যাসেজ গুলো দেখে নিয়েছিলো আর সে সুমনকে ঘৃণাও করতে শুরু করেছিল কারণ সুমন যে তাকে কোনোদিন অপমান করতে [আরে সেটা সে ভাবতেই পারেনি । প্রীতি অনেকদিন আগেই সুমনকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্লক করেছিল এবার নিজের মন থেকেও করে দিল । কিন্তু সুমন তো এতো তারাতারি দূরে যেতে চাইনা সে বারবার প্রীতিকে বোঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু আর কোনও আশা ছিল না। সুমন ঠিক করে নিল সে যখন একবার প্রীতিকে ভালোবেসেছে তখন প্রীতি তার জিবনে থাক বা না থাক ভালো তাকেই বাসবে । যে সুমন একদিন প্রীতির সাথে রাত্রে ম্যাসেজ করে ঘুমাতো আজ সেই সুমনকে প্রীতির পুরনো ম্যাসেজ গুলো দেখে ঘুমোতে যেতে হই । সুমনের জিবনে হয়তো প্রীতি আর কোনোদিন আসবে না কিন্তু ভালোবাসার প্রকৃত মানেটা যে সে প্রীতির কাছেই শিখেছে সেটা সুমনকে প্রীতির কথা ভুলতে দেবে না। প্রীতির কাছে যেই ভালোবাসার অধ্যায় টা সমাপ্ত হয়ে গেয়েছে সেটা সুমনের কাছে আজও অসমাপ্ত