অসমাপ্ত ( পর্ব - ১)

Osomapto

Source:- Photo by Min An from Pexels

অসমাপ্ত ( পর্ব- ১ )

কলমে - রনি বক্সী (Bong Boy Roni)

ভালোলাগা এবং ভালোবাসা এই দুটি কথা বুঝতে আমরা প্রায় ভুল করি ফেলি । আমরা যেটাকে ভালোবাসা ভাবি অনেক সময় একটু দেরিতে হলেও আমরা বুঝতে পারি সেটা ভালোবাসা না সেটা ভালো লাগা ছিল । আমার অনেক সময় আমাদের কাউকে ভালো লাগলে কখন যে সেই ভালোলাগার মানুষটিকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবেসে ফেলি বুঝতেই পারিনা ।কথাই আছে ভালোবাসা বয়স , সম্পর্ক কিছু দেখেনা । কে , কখন , কাকে ঠিক কতটা ভালোবেসে ফেলবে সেটা কেউ জানে না । ঠিক তেমনি এক প্রেমের গল্প নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য ।  আমি রনি বক্সী আর আপনারা পড়ছেন আমার লেখা ' অসমাপ্ত ' ।

সুমন , যার কাছে ভালোবাসার কোনও মূল্য ছিল না ,  ভালোবাসার জন্য আত্মহত্যা করা , পাগলামি করা এগুলো সুমনের কাছে হাস্যকৌতুক ব্যাপার ছিল। আসলে কিছু বছর আগে  সুমন তাঁর ভালোবাসার মানুষটিকে তাঁর থেকে দূরে করে দিয়েছিল মেয়েটির পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে তারপর থেকেই সুমন কাওকে ভালোবাসার কথা ভাবতেই পারেনা । তাঁর আগে বলে রাখি এই কিছু বছরে সুমনের জিবনে বেশ কিছু মেয়ে আশে কিন্তু সুমন তাদের কাওকেই ভালোবাসতো না, যার কারনে সুমন তাদের কারও সাথে দেখা করতো না শুধু ফোনে কথা বলতো।

কিন্তু হটাৎ একদিন সুমনের জীবন পালটে গেল।

এক অনুষ্ঠান বাড়িতে সুমন প্রিয়াকে দেখতে পেল । প্রিয়া সুমনের সেই ভালোবাসা যাকে হারানোর পর সুমন নিজের মন থেকে ভালোবাসা শব্দটা মুছে ফেলেছিল । যাই হোক সেই অনুষ্ঠান

বাড়ি প্রিয়া আর সুমনকে আবার কাছাকাছি নিয়ে আসে ।তারা একসাথে কিছুটা সময় কাটায় কিন্তু সুমন ভাবতেই পারেনি যে প্রিয়া আবার তার ভালোবাসা হয়ে ফিরে এসেছে । যেহেতু প্রিয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল তাই সুমন যে প্রিয়াকে এখনও ভালোবাসে সেটা সে বলতে পারেনা।কিন্তু সময় কখন কি নিয়ে আসে বোঝা মুশকিল , গল্পের ছলে সুমন জানতে পারে প্রিয়া এই বিয়ে করতে চাইনা , আর প্রিয়ার মনে সুমনের জন্য এখনও সেই ভালোবাসা আছে।এই কথা শুনে সুমন খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাই । সে যেন এই পৃথিবীর সব চাইতে ভাগ্যবান ব্যাক্তি।

তারপর অনুষ্ঠান বাড়ি কাটিয়ে প্রিয়া নিজের বাড়ি চলে যাই। এরপর শুরু হয় তাদের মিষ্টি প্রেমের গল্প। প্রিয়া ধিরে ধিরে সুমনের সাথে সংসার করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে । প্রিয়া সুমনকে বর বলে ডাকে আর সুমন প্রিয়াকে বউ বলে ডাকে । প্রিয়া যে কিনা এতদিন নিজের ইচ্ছে মতো বেঁচে এসেছে সে ধিরে ধিরে সুমনের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে ।  বাইরে কোথাও গেলে সুমনের অনুমতি নিতে শুরু করে এমনকি কি পোশাক পরে বেরোবে তাও সুমনের কাছে জানতে চাই । এগুলো একটু বোকা বোকা লাগলেও তাদের কাছে এটাই ছিল ভালোবাসার একটা অংশ। সুমনও ঠিক তাই করতো , এমন মনে হতো যেন তারা এতো দূরে থেকেও খুব কাছে আছে। সুমন প্রিয়াকে এতোটাই ভালোবাসতো যে সুমন যদি ফোনে কারও সাথে কথা বলতো আর সেই মুহূর্তে প্রিয়ার কল আসতো তাহলে সুমন প্রিয়াকে কনফারেন্সে নিয়ে নিত জানো প্রিয়া তার ফোন ব্যাস্ত পেয়ে তাকে ভুল না বোঝে । যতই হোক এই কিছু বছর সুমন অনেক মেয়ের সাথেই ফ্লাটিং করেছে  আর এটা সে প্রিয়াকেও বলেছে তাই সুমনের ফোন ব্যাস্ত থাকলে প্রিয়ার তাকে ভুল বোঝাটা স্বাভাবিক। সুমন প্রিয়াকে আর কোনও ভাবে হারাতে চাইনা ।